বেতন স্বচ্ছতা বজায় রাখলে ইইউ নারীরা বার্ষিক ৭০০ ইউরো বেশি আয় করবে

বেতন স্বচ্ছতা নির্দেশিকা মেনে চললে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কর্মরত প্রতিটি নারীর বার্ষিক আয়ে যোগ হবে ৪৬৫ থেকে ৭০০ ইউরো।

বেতন স্বচ্ছতা নির্দেশিকা মেনে চললে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কর্মরত প্রতিটি নারীর বার্ষিক আয়ে যোগ হবে ৪৬৫ থেকে ৭০০ ইউরো। সরকারি সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালেও ইইউতে নারীরা পুরুষদের তুলনায় গড়ে ১২ শতাংশ কম বেতন পেয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে বেতন স্বচ্ছতা নির্দেশিকা চালু করেছে ইইউ। খবর ইউরো নিউজ।

২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের জাতীয় আইনে এ নির্দেশিকা অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। লিঙ্গভিত্তিক বেতনবৈষম্য দূর ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাড়াতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠী নির্দেশিকা জারির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করছে, ১০০ থেকে ২৫০ জন কর্মচারীবিশিষ্ট কোম্পানিগুলোর জন্য বেতন স্বচ্ছতা বিধির আওতায় কিছু ছাড় থাকা উচিত। বিশেষ করে যদি কোম্পানির কর্মী সংখ্যা ৫০-এর নিচে থাকে। ছোট কোম্পানিগুলো যথাযথভাবে এ বিধি অনুসরণ করতে সক্ষম নয়। ফলে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

ইউরোপীয় ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (ইটিইউসি) জানিয়েছে, বেতন স্বচ্ছতা নির্দেশিকা চালু না করা হলে ব্লকটির নারীদের বার্ষিক প্রায় ৪৮০ কোটি ইউরো ক্ষতি হবে। ক্ষতির পরিমাণ ৭২০ কোটি ইউরো পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

নিয়োগ প্লাটফর্ম ইনডিডের তথ্য অনুসারে, জার্মানির মতো বৃহৎ অর্থনীতির দেশেও বেতন স্বচ্ছতা খুব কম। এমনকি চাকরির পদায়নেও এটি ২০ শতাংশের নিচে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি ইসাবেল শোম্যান বলেছেন, ‘স্বচ্ছতার ওপর সমতা বিকশিত হয়। আমরা যত বেশি বৈষম্যের ওপর আলোকপাত করতে পারব তত বেশি সংশ্লিষ্টদের এ অন্যায় মোকাবেলায় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারব। ইউরোপীয় কমিশনকে নারী অধিকারের জন্য তাদের আসন্ন রোডম্যাপে সমান বেতন নিশ্চিত করতে হবে।’

ইটিইউসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইউরোপের ১০০ থেকে ২৫০ জন কর্মচারীসংবলিত প্রতিষ্ঠানগুলো স্বচ্ছতা অব্যাহতির আওতায় পড়তে পারে, সেখানে মোট এক কোটিরও বেশি নারী কর্মরত। এ বিষয়ে শোম্যান বলেন, ‘কোম্পানিগুলো নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়ানোর কার্ড খেলছে। কিন্তু নারী কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে কম বেতনের চাপে চাপা পড়েছেন।’ লিঙ্গভিত্তিক বেতনবৈষম্য কমাতে স্বচ্ছতা নারী কর্মী ও তাদের ইউনিয়নগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার বলে মনে করছে ইটিইউসি।

ইটিইউসির বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, বেতন স্বচ্ছতা নির্দেশিকা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যদি ১৫ শতাংশ লিঙ্গভিত্তিক বেতনবৈষম্য কমানো সম্ভব হয় তাহলে সামগ্রিকভাবে নারীর বেতনবৈষম্য বার্ষিক ৪ হাজার ৬৪০ থেকে কমে ৩ হাজার ৯৪৪ ইউরো হবে। ফলে প্রতিটি নারীর বেতন বার্ষিক ৭০০ ইউরো বাড়বে। আর এ বৈষম্য ১০ শতাংশ কমানো সম্ভব হলে নারীদের বার্ষিক বেতন বাড়বে ৪৬৪ ইউরো। আর নারীদের আয়ে সামগ্রিকভাবে ৭২০ কোটি ইউরো যোগ হবে।

নিজেদের গবেষণা বিশ্লেষণ করে আরো একটি উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছে ইটিইউসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, লবিং গ্রুপ বিজনেস ইউরোপ ইইউকে পরামর্শ দিচ্ছে যাতে পে ট্রান্সপারেন্সি নির্দেশিকার আওতাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানিকে লিঙ্গভিত্তিক বেতনবৈষম্য রিপোর্টিং প্রয়োজনীয়তা থেকে বাদ দেয়া হয়। এ বিষয়ে বিজনেস ইউরোপের দাবি, লিঙ্গভিত্তিক বেতনবৈষম্য কমাতে যুক্তিসংগত ব্যবস্থা সমর্থন করে তারা। তবে অধিকাংশ কোম্পানি যথাযথভাবে এ বিধি অনুসরণ করতে সক্ষম নয়। এতে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ইনডিডের প্রতিবেদন অনুসারে, শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোতেও বেতন স্বচ্ছতা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ছয়টি ইউরোপীয় দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ বেতন স্বচ্ছতা ছিল। এর পরই রয়েছে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড। তবে জার্মানি ও ইতালি এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে।

আরও